প্রথম দিনেই সরবরাহের চাপে দাম কমলো সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
 

সাতক্ষীরায় মৌসুমের প্রথম দিনেই বাজারে ব্যাপক সরবরাহের চাপে কমে গেছে জনপ্রিয় হিমসাগর আমের দাম। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিমসাগর আম বাজারজাত শুরু হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মণপ্রতি দাম কমেছে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

জেলার বৃহত্তম আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকালে প্রতি মণ হিমসাগর আম ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও দুপুরের পর তা নেমে আসে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৬০০ টাকাতেও আম বিক্রি হয়েছে।

চাষিদের দাবি, প্রথম দিনেই একযোগে বাজারে বিপুল পরিমাণ আম আসায় সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে বাজারে দাম ভেঙে পড়ে।

সদরের কুখরালী এলাকার আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে বাজার ভালো থাকলেও দুপুরের পর অতিরিক্ত আম আসায় দাম কমে যায়। ধাপে ধাপে আম বাজারে এলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

আরেক চাষি সোনা মিয়া জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও যদি শুরুতেই দাম পড়ে যায়, তাহলে কৃষকদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

চাষিদের অভিযোগ, আগাম বাজার ধরার প্রতিযোগিতা, ঝড়ের আশঙ্কা এবং অনলাইন ব্যবসার প্রসারের কারণে স্থানীয় পাইকারি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সদরের চাঁদপুর এলাকার আমচাষি আলতাফ হোসেন বলেন, এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, তবে আকার কিছুটা ছোট। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও কালবৈশাখীর শঙ্কায় অনেকেই ঝুঁকি না নিয়ে একসঙ্গে আম নামিয়ে ফেলেছেন।

বাগান মালিক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আড়তে অতিরিক্ত টাকা কাটা এবং সিন্ডিকেটের কারণে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়েই লোকসানে আম বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে আড়তদারদের দাবি, বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়াতেই দাম কমেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের আড়তদার কবির হোসেন বলেন, প্রথম দিনেই সব বাগানের আম একসঙ্গে বাজারে আসায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল থেকে আসা অনলাইন ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর স্বাদ ও ঘ্রাণে অনন্য। প্রিমিয়াম মানের আম বাজারে এলে দাম আবার বাড়বে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, আমের দাম কমলেও পরিবহন, প্যাকেজিং ও কুরিয়ার খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে বাজারে চাপ আরও বাড়ছে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথম দিনে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দামের ওঠানামা হয়েছে। তবে রফতানি কার্যক্রম শুরু হলে এবং বাইরের বড় পাইকাররা সক্রিয় হলে বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক আম চাষ করেছেন। এবার ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে ১০০ মেট্রিক টন আম রফতানির লক্ষ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে।



বিষয়:



Top