শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর ফ্রিজে মাংস, ড্রামে মাথা ও হাড় রাখেন স্ত্রী

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার বাসিন্দা জিয়া সরদারের সঙ্গে পিরোজপুরের আসমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। গত বছর প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন জিয়া সরদার। পরে তারা চন্দ্রপুর এলাকার একটি নতুন বাসায় ওঠেন।

সম্প্রতি দাম্পত্য কলহকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ গোপন করতে দেহ টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নারী। এরপর সেগুলো ড্রামে ভরে রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশাযোগে মরদেহের একটি অংশ বস্তায় ভরে আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায় ফেলে আসেন তিনি। এছাড়া কিছু অংশ শহরের পালং এলাকার পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে রাখা হয়। পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায় এবং আসমা আক্তারকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ড্রামের ভেতর মরদেহের অংশ পাওয়া গেলে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top