বাসি খাবার খায় না জামালপুরের 'জমিদার', মেন্যুতে থাকে ডিম-কলা
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুরে আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির একটি ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। চার বছর বয়সী এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। রাজকীয় গড়ন আর জীবনযাপনের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে গরুটি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এক নজর দেখতে।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারেই জন্ম জমিদারের। ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো যত্নে বড় করা হয়েছে তাকে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকার খাবার খায় এই বিশাল ষাঁড়টি।
খামারি রফিকুল ইসলাম জানান, জমিদার বাসি খাবার একেবারেই খায় না। প্রতিবারই তাকে টাটকা খাবার দিতে হয়। তার খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুসি। পাশাপাশি নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসলও করানো হয় তাকে।
রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, পরিবারের সবাই মিলে নিজেদের সন্তানের মতো করেই গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। অনেক কষ্ট ও ব্যয় করে জমিদারকে বড় করা হয়েছে। এবার ভালো দাম পেলে বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি করতে চান তারা।
খামারি আরও জানান, জমিদারের আকার এতটাই বড় হয়েছে যে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ঘরের দেয়াল ভাঙতে হবে। অন্য কোনোভাবে তাকে বাইরে আনা সম্ভব নয়।
গরুটি দেখতে আসা স্থানীয় কয়েকজন জানান, এলাকায় এত বড় গরু আগে কখনো দেখা যায়নি। একজন সাধারণ খামারি হয়েও রফিকুল ইসলাম অনেক পরিশ্রম করে গরুটিকে বড় করেছেন। ভালো দামে বিক্রি হলে পরিবারটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলেও আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিদার অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। মালিকের ডাকে সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি নির্দেশ বুঝতেও পারে সে। কেউ দাঁত দেখতে বললে দাঁতও দেখায় এই বিশাল ষাঁড়টি।
গত ঈদুল আজহায় জমিদারের দাম উঠেছিল ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় তখন গরুটি বিক্রি করেননি রফিকুল ইসলাম। এবার ভালো দাম পেলেই জমিদারকে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ছোট খামারিরাও বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা স্থানীয় পশুর হাটে খামারিরা তাদের পশু উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
