নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরপাড়ে মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ী থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ফরিদপুরে পুকুরপাড়ের মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা যতিনবদ্দি এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কর্ণসোনা গ্রামের জাহানারা বেগম (৩০) ও তার চার বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে আত্মীয়ের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জাহানারা বেগম। এরপর তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের না পেয়ে গোয়ালন্দ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন স্বামী আমজাদ শেখ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় থাকা মরদেহের একটি পা কুকুর টেনে বের করে আনে। বিষয়টি দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে প্রথমে নারীর মরদেহ এবং তার নিচ থেকে শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন নিহত জাহানারার স্বামী আমজাদ শেখ।

তিনি দাবি করেন, ইটভাটায় কাজ করার সময় তার স্ত্রীর সঙ্গে এক ব্যক্তির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে একাধিকবার তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করতে পারে।

আমজাদ শেখ বলেন, দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী ও মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসে। এলাকাটি দুই জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় রাতে সেখানে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে বলে দাবি তাদের। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top