নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক
|
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ০১:৩১ এএম
শেয়ার করুন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত আরও ৯ জন বর্তমানে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তত ১৪ জনকে আহত করে। এরপর একে একে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে।
সবশেষ বুধবার দুপুরে মারা যান সুলতানা বেগম (৩৯)। এর আগে সোমবার রাতে মারা যান আফরুজা বেগম (৪০)। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান কাঠমিস্ত্রী রতনেশ্বর বর্মণ (৫০)। এছাড়া ৬ মে মারা যান নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া (৫২)।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো র্যাবিস ভ্যাকসিন না পাওয়া এবং হাসপাতালের অবহেলার কারণেই এসব মৃত্যু ঘটেছে। সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাবিসের কোনো ভ্যাকসিন ছিল না। একই অবস্থা ছিল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালেও।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, ভ্যাকসিন কেনার জন্য মাত্র ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
চিকিৎসকদের মতে, কুকুরে কামড়ানোর পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাবিস ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনেক ভুক্তভোগী হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেও সময়মতো ভ্যাকসিন পাননি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “সঠিক সময়ে কার্যকর ভ্যাকসিন নিলে সাধারণত র্যাবিসে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে না।”
এদিকে, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্যসেবায় ভ্যাকসিন সংকট, নামমাত্র বরাদ্দ এবং বাজারে বিক্রি হওয়া ভ্যাকসিনের মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।