কুড়িগ্রামে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ১৮৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারি বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো ধান চাষি ও দিনমজুর মানুষ।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে জেলায় টানা মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। জেলা শহরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনেও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাকা বোরো ধান কাটতে না পেরে তারা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুররা।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খলিফার মোড় এলাকার দিনমজুর আজিজুল মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আজ কাজও বন্ধ। একদিন কাজ না করলে সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যায়।”
সদর পৌর এলাকার কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, “আমার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি। এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ধান কাটবো বুঝতে পারছি না।”
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছত্রপুর গ্রামের কৃষক হাফেজ রশিদ আহমেদ বলেন, “ধান আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে হিসেবে ধানের দাম পাই না। তার ওপর ধান কাটার শ্রমিকের খরচ অনেক বেশি। এখন টানা বৃষ্টিতে ধানক্ষেত ডুবে যাওয়ার উপক্রম। বৃষ্টি না কমলে ধান ঘরে তুলতে পারবো কি না সেই দুশ্চিন্তায় আছি।”
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পৌর শহরের বেশিরভাগ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সুজামের মোড় এলাকার মুদি দোকানি রিপন মিয়া বলেন, “এমনিতেই শহরের রাস্তার বেহাল অবস্থা, তার ওপর এত বৃষ্টি। কাস্টমার নেই বললেই চলে। তারপরও সংসারের কথা চিন্তা করে দোকান খুলেছি।”
ঘোষপাড়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি সৈয়দ আলম বলেন, “গত কয়েক বছরে এমন বৃষ্টি দেখিনি। বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারিনি। খুব কষ্টে আছি।”
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জেলার প্রায় ৫১ হেক্টর আবাদি জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “এ বছরের মধ্যে আজ সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”