এবার ঢাকায় আসছে ৭০০ কেজির ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটে এবার ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিরল রঙের এক বিশাল মহিষ। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই গোলাপি রঙের মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি খামারে রাখা এই মহিষটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত মানুষ। অনেকে দূরদূরান্ত থেকে এসে শুধু এটিকে দেখার পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়। পরে এটি ঢাকার এক ক্রেতার কাছে লাইভ ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। আগামী সপ্তাহে এটি নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এলবিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রং সাধারণ মহিষের মতো কালো নয়, বরং গোলাপি ধরনের। মাথার সামনের লম্বা লালচে-সোনালি লোম অনেকের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, সাধারণত মানুষ কালো মহিষ দেখতেই অভ্যস্ত, কিন্তু এই মহিষটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর রং, গঠন ও স্বভাব সবই আলাদা। প্রথম থেকেই এটি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে এবং ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও রিলসের মাধ্যমে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। অনেকেই খামারের নাম না জেনেও শুধু এই মহিষের কারণে জায়গাটি চিনে ফেলছে।
রাখাল জুবায়ের জানান, খামারে আরও অনেক পশুর মজার নাম রয়েছে, তবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক দর্শনার্থী শুধু এটিকে দেখতেই আসছেন এবং সেলফি তুলছেন।
খামার কর্মীদের ভাষ্য, দর্শনার্থীরা এসে প্রথমেই ‘ট্রাম্প কোথায়’ জানতে চান। ছোট শিশুরাও মহিষটির কাছে গিয়ে ছবি তুলছে ও হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় এটি দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতেও অস্থির হয়ে ওঠে না।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, জেলায় এবারের কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটি এলবিনো প্রকৃতির দেশি মহিষ, যা বিরল হলেও বিদেশি কোনো জাত নয়।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এলবিনো প্রাণীর শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থের অভাবে এমন ভিন্ন রং দেখা যায়। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব প্রাণী সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
