তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, থানা থেকে একজনকে জামিন

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে চুরির অভিযোগ তুলে এক তরুণকে গাছে বেঁধে মারধরের ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আটক আরেক আসামিকে প্রাথমিক তদন্তের পর থানা থেকেই জামিন দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম মুহিন (১৮)। তিনি নগরের কাজলা এলাকার বাসিন্দা। আর থানা থেকে মুক্তি পাওয়া যুবকের নাম আলী হাসান মো. মুজাহিদ। গত সোমবার সন্ধ্যায় নগরের পৃথক দুটি এলাকা থেকে তাদের আটক করে মতিহার থানা পুলিশ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, মামলার এজাহারে নাম থাকলেও আলী হাসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া তার এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে থানা থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় আদালতে প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।

আসামিকে থানা থেকে জামিন দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আইনের আওতায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ ধরনের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পলাতক অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত রোববার রাজশাহী নগরের কাজলা বিলপাড়া এলাকায় তুষার নামের এক তরুণকে চুরির অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে তুষারের বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া মুহিন ছাড়াও শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২) রয়েছেন। তারা বর্তমানে পলাতক। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত শনিবার রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন তুষারের বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। সে সময় তুষার বাড়িতে না থাকায় তার বাবা নাজির আলীকে হুমকি দিয়ে যান অভিযুক্তরা। পরদিন সকালে আগের দিনের ঘটনার কারণ জানতে হৃদয়ের বাড়িতে গেলে তুষারকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top