কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনের হত্যায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১১ মে) গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক প্রতিবেদন প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং বড় দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়।

এছাড়া ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চিকিৎসকরা আরও জানান, শারমিন খানমকে হত্যার আগে তার দুই হাত ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক বলেন, নিহতদের শরীরে চেতনানাশক দ্রব্যের প্রভাব ছিল কি না, তা যাচাইয়ের জন্য পেটের ভেতরের নমুনা এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খাবার ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখানকার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি আবাসিক ভবন থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা জীবিকার তাগিদে সেখানে বসবাস করছিলেন।

নিহত শারমিনের বাবা বাদী হয়ে ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে, যেখানে হত্যার কথা উল্লেখ ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top