বাম্পার ফলনেও স্বস্তি নেই মাগুরার কৃষকদের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

সংগৃহীত

চলতি বোরো মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাগুরা জেলায় বোরো, মিনিকেট ও সুবর্ণলতা ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি এবং হঠাৎ বৃষ্টি-ঝড়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন তারা।

কৃষকদের দাবি, তেল সংকটের কারণে সময়মতো সেচ দিতে না পারলেও এবার ফলন আশানুরূপ হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট ও ধান কাটার মেশিনের স্বল্পতা।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের অর্ধেক দিনের মজুরি দিতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। পাশাপাশি শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে ধান কাটার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মাগুরায় প্রায় ৩৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ এলাকাতেই ফলন ভালো হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা।

মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের রেরইল গ্রামের কৃষক রহিম বলেন, “দশ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গতবারের চেয়ে ফলন ভালো হইছে। কিন্তু ধানের দাম কম, আবার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। একজন শ্রমিককে অর্ধেকবেলার জন্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে, সঙ্গে তিনবেলা খাবার। সব খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকতেছে না। সামনে আবার বৃষ্টির সময়। এখন সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আরও ক্ষতি হবে।”

একই এলাকার কৃষক রহমত বলেন, “হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি উঠে গেছে। এখন মেশিনও নামানো যাচ্ছে না। শ্রমিকরাও পানিতে নেমে ধান কাটতে চায় না। তাই অনেকে নিজেরাই ধান কাটার চেষ্টা করতেছে।”

মঘী ইউনিয়নের কৃষক আজিজ জানান, বৃষ্টিতে অনেক ধান কাদাপানির সঙ্গে মিশে গেছে। দ্রুত ঘরে তুলতে না পারলে ধান ও খড়—দুইটাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “এ বছর মাগুরায় বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও উপকরণ দেওয়া হয়েছে। তবে উপকরণের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবাইকে একসঙ্গে সহায়তা করা সম্ভব হয়নি। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top