লালমনিরহাটে মানবেতর জীবনযাপন প্রতিবন্ধী উমিনা খাতুন ও শতবর্ষী মায়ের
জুবাইর আহমেদ খান রোহান | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৫:১২ এএম
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দীঘলটারী তালতলা গ্রামে প্রতিবন্ধী উমিনা খাতুন (৫২) ও তার শতবর্ষী মা জরিনা খাতুনের জীবন কাটছে চরম মানবেতর অবস্থায়। নিজেদের কোনো ঘরবাড়ি না থাকায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন ভাতিজার পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে।
জানা গেছে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেছিলেন উমিনা খাতুন। কিন্তু কিছুদিন পরই হঠাৎ তার দুই পা অবশ হয়ে যায়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা না করাতে পারায় তিনি স্থায়ীভাবে চলাচলের ক্ষমতা হারান। বিপদের সময়ে স্বামীর সহায়তা পাওয়ার পরিবর্তে তিনি স্বামীর সংসার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
এরপর থেকে বৃদ্ধা মা জরিনা খাতুনই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ান তার জীবনে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শতবর্ষী এই মা এখন নিজেই মেয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে মা-মেয়ে দুজনই বসবাস করছেন অন্যের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে। দিন কাটে অন্যের বাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবার ও ভিক্ষার টাকায়। সারা দিন পথের ধারে বসে থাকেন উমিনা খাতুন। কেউ সহানুভূতি দেখিয়ে কিছু দিলে অশ্রুসজল চোখে তা গ্রহণ করেন তিনি।
আশ্রয়দাতা ভাতিজা জাহিদুল জানান, নিজের সংসারের চাপের কারণে এখন তাদের দেখভাল করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষের ঠাঁই হলেও উমিনা খাতুন ও তার শতবর্ষী মায়ের মতো অসহায় মানুষ এখনো ঘরহীন। তাদের জন্য একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
বিষয়:
