সাংবাদিককে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতার নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় জ্বালানি তেল মজুদ, কৃষিজমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাহিদুল হাসান রুকন ‘বাংলাদেশ মিডিয়া’ নামের একটি মাধ্যমে কুলিয়ারচর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বকুল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ডুমরাকান্দা বাজারে অবস্থানকালে ওই সাংবাদিককে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে ‘বিচার’ বসানোর নামে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়।
ঘটনার একাধিক ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যচিত্রে দেখা যায়, ওই বিএনপি নেতার উপস্থিতিতেই তার লোকজন সাংবাদিককে কিল-ঘুষি মারছে এবং তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এ সময় তাকে জোর করে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাহিদুল হাসান রুকন বলেন, বকুল ও তার লোকজন জ্বালানি তেল মজুদ ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে খাইরুল ইসলাম বকুল এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জুয়া এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র পরিচালনা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতারাও ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তিনি অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও তোলেন।
এদিকে কুলিয়ারচর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হান্নান এ ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না।
অন্যদিকে, ঘটনার দৃশ্যচিত্র থাকলেও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম বকুল মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
