দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি, শোকে স্তব্ধ গ্রাম
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর জীবিত দেশে ফিরলেন না। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে খণ্ডিত মরদেহে ফিরতে হলো তাকে। শনিবার তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পৌঁছালে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
শনিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ। পরে দুপুরে তা নেওয়া হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে। একমাত্র মেয়ের নিথর দেহ একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। শোকাহত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বৃষ্টি। সেখানে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের বিরোধের জেরে গত ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাস থেকে তাদের অপহরণ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ৩০ এপ্রিল দেশটির পুলিশ বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, “সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটির এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল। তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বৃষ্টিকে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এই তরুণীর অসমাপ্ত জীবন এখন স্বজনদের কান্না আর বিচার দাবির প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
