একই পরিবারে পাঁচ খুন, নৃশংসতা দেখে কেঁদে ফেললেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৬:০৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। শিশুদের মরদেহ দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তিনি আগে কখনও দেখেননি। বাচ্চাগুলোর মরদেহ দেখে তার খুব কষ্ট হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীদের চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিহতরা হলেন ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। স্বজনদের দাবি, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন।

পরে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার মরদেহ। শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। আর রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়র বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহের পাশ থেকে কিছু ছাপানো কাগজও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে ফুরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে সেখানে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র ও অন্যান্য আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। নৃশংস এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top