চুয়াডাঙ্গায় সালিশ বৈঠকে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে সালিশ বৈঠকের মধ্যেই আলিমুদ্দীন (৫২) নামের এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজনের উপস্থিতিতে চলমান সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুট্টা বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

নিহত আলিমুদ্দীন শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের কুমিরপাড়া এলাকার মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে এবং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করে রাখেন। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। লিয়াকত আলী একই গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আলিমুদ্দীনের ভাইয়ের ছেলে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর কাছে ভুট্টা বিক্রির ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে হঠাৎ কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর আলিমুদ্দীনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন এবং আরেকজন আরিফের ছেলে আরাফাত মিলে আলিমুদ্দীনকে বেধড়ক মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাই কালু মণ্ডল বলেন, সালিশ বৈঠকের মধ্যে সবার সামনে আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজন বলেন, ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সালিশ চলাকালে হঠাৎ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ঘটনায় অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top