গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন ট্রাকচালক মো. ফোরকান মিয়া (৪০)। হত্যাকাণ্ডের পর এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে গত চার মাস ধরে ভাড়া থাকতেন ফোরকান ও তার পরিবার। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। অন্য চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কিছু কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে, যা কোনো মামলার নথি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ি থেকে মাদক সেবনের আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
নিহত শারমিনের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতেন ফোরকান। তাদের দাবি, মাদকাসক্ত অবস্থায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
স্বজন মনির হোসেন জানান, চাকরি দেওয়ার কথা বলে শ্যালক রসুলকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। পরে তাকেও হত্যা করা হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিক দেখা গেলেও গভীর রাতে ঘটে যায় ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, হত্যার পর ফোরকান ফোন করে একজনের কাছে ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। পুলিশের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহে কাজ করছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।