চিকিৎসার নামে ভারতে নেওয়ার ফাঁদ, সীমান্ত এলাকায় মধ্যবয়সী নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৯ মে ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার এক মধ্যবয়সী নারী চিকিৎসার জন্য অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচার, হুন্ডি ব্যবসা ও সীমান্ত দালালির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নারী জানান, বৈধভাবে ভিসা না পাওয়ায় তিনি মুকসুদপুর উপজেলার মহাটালী গ্রামের নারায়ণ পোদ্দার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় ভারতে যাওয়ার চুক্তি করেন। পরে নারায়ণ পোদ্দার তাকে সীমান্তসংলগ্ন একটি ঘাট এলাকায় নিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর পর নারায়ণ পোদ্দার মোটরসাইকেলে করে অন্যত্র চলে যান এবং ওই নারীকে একা রেখে দেন। এরপর চার ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন ঘরে নিয়ে গিয়ে সারারাত ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও আট আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরদিন সকালে কোনোভাবে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন ওই নারী। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সম্প্রতি ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে কাশিয়ানী রিপোর্টার্স ফোরাম। অনুসন্ধানী টিম কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথর বাজারে নারায়ণ পোদ্দারের কাপড়ের দোকানে গিয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি প্রথমে ওই নারীকে না চেনার দাবি করেন। পরে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের তথ্য সামনে এলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এদিকে, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। মহাটালী গ্রামের পরেশ বাকচীর বাড়িতে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নারায়ণ পোদ্দার দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এমন গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, নারায়ণ পোদ্দার কাপড় ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দালালি, মানবপাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি নিয়মিত অবৈধভাবে ভারত যাতায়াত করেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয়রা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



বিষয়:



Top