কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে জ্বালানি তেল সংগ্রহের টোকেন বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মেসার্স অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশন থেকে তিন হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যে প্রতি ৩০০ টাকায় প্রায় ২ দশমিক ৪ লিটার জ্বালানি পাওয়া যাবে, যা প্রায় এক হাজার দুইশতাধিক যানবাহনের জন্য বরাদ্দ হিসেবে ধরা হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে সড়কে মোটরসাইকেলের চলাচলও কিছুটা কমে গেছে বলে জানা যায়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টোকেন বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদকে। শনিবার অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনে টোকেন বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন রাজারহাট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জাহিদ হাসান।
তবে টোকেন নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে টোকেন পাননি, অথচ প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক টোকেন বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে সাধারণ চালকরা ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
একজন চালক অভিযোগ করে বলেন, “সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টোকেন পাচ্ছে না, কিন্তু পরিচিতদের একাধিক টোকেন দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে টোকেন বিতরণ কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাহিদ হাসান বলেন, মোট ৮০০টি টোকেন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ টাকার জ্বালানি গ্রহণের টোকেন রয়েছে। পাশাপাশি চাকরিজীবী ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক ৫০০ টাকার টোকেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
টোকেন বিতরণ ঘিরে এমন অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।