সিগারেট থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে আগুন, দুই রোগীর মৃত্যু

বরিশাল প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে আনসার সদস্যসহ অন্তত ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কোণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় রোগী স্থানান্তরের মধ্যে পটুয়াখালীর কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশাল নগরের আবুল হোসেন (৬৭) মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ, অক্সিজেনের অভাবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়ার্ডে রোগীদের ব্যবহারের জন্য রাখা ফোম, বেডশিট ও বালিশসহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকায় দ্রুত ধোঁয়া পুরো তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় হুড়োহুড়ি।

অনেকে রোগীদের কোলে ও স্ট্রেচারে করে দ্রুত নিচে নামিয়ে হাসপাতাল চত্বরে আশ্রয় নেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে হাসপাতালের কর্মী ও স্বজনরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

নিহত কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধূ জানান, তার শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং সার্বক্ষণিক অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল। আগুন লাগার সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হয়। পরে দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা না হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে অক্সিজেন চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা তার বাবাকে স্থানান্তরের সময় আর জীবিত পাওয়া যায়নি।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত দুই রোগীর শারীরিক অবস্থা আগেই আশঙ্কাজনক ছিল।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ জানান, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান বলেন, ভবনের দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে পুরোনো ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন আনসার সদস্য ও কর্মী অসুস্থ হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল স্টেশনের কর্মকর্তা আবুজর গিফরী জানান, ফোম ও বেডিং সামগ্রী থাকায় ধোঁয়া বেশি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। সিগারেট বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে তদন্ত করা হবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top