পালিয়ে বিয়ে করায় পুলিশের সামনেই মেয়েকে মেরে ফেললেন বাবা-মা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ এএম
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করায় বাবা-মায়ের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণী। থানার ভেতরে পুলিশের উপস্থিতিতেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিবানীর বয়স ছিল ১৯ বছর। গত ১৮ মে তিনি প্রতিবেশী ললিত বর্মার সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে যান। পরে তারা একটি মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং আইনগতভাবে বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
শিবানীর নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার ললিতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নবদম্পতির খোঁজে অভিযান শুরু করে। পরে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলা থেকে তাদের উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বান্দা থানায় আনা হয়।
থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিবানী ও ললিত জানান, তারা স্বেচ্ছায় ও পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তারা পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন।
পরে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিবানীর বাবা-মা তাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। তবে শিবানী স্বামীর সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
একপর্যায়ে বৈঠকে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, শিবানীর মা তাকে শক্ত করে ধরে রাখেন এবং সেই সময় তার বাবা ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে শিবানীর পেট, হাত ও হাতের তালুতে গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দা জেলার পুলিশ সুপার পলাশ বানসাল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত শিবানীর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
