দলীয় সম্পদ-প্রতীকও কি হারাতে পারেন মমতা? রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ এএম
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। দলটির ভেতরে বড় ধরনের ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন দল কি শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই নয়, দলীয় প্রতীক ও বিপুল সম্পদের মালিকানাও হারাতে পারে?
দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। একইভাবে লোকসভার ৪১ জন এমপির মধ্যে একাংশ এনডিএ-কে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঋতব্রত ব্যানার্জী। অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল সাংসদ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভারতের মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ভাঙনের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘সিম্বলস অর্ডার, ১৯৬৮’-এর ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বিভক্ত হলে কোন অংশ দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকে।
সাধারণত কমিশন বিবেচনা করে, অধিকাংশ এমপি ও এমএলএ কোন পক্ষের সঙ্গে আছে, সাংগঠনিক কাঠামোর সমর্থন কোন দিকে, দলীয় আদর্শ ও সংবিধানের প্রতি কারা বেশি অনুগত । ১৯৭১ সালের ‘সাদিক আলি বনাম নির্বাচন কমিশন’ মামলাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে এখন পর্যন্ত তৃণমূলের কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি বা অভিযোগ জানায়নি। ফলে প্রতীক বা সম্পদের মালিকানা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কার্যত তিনটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, মমতা ব্যানার্জীর অনুগত শিবির, ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন আরেকটি সংসদীয় অংশ তবে এই বিভাজন নিয়ে দলীয়ভাবে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সম্পদের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এতে স্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক আমানত ও বিভিন্ন বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো পক্ষ নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পায়, তাহলে দলীয় প্রতীকসহ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে দল ভাঙনের একাধিক নজির রয়েছে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বিভক্তির পর প্রতীক ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়। একইভাবে এনসিপি, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্ক দেখা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের ওপর।
বিষয়:
