আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

সংগৃহীত

আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত ও পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু বলে জানিয়েছে তালেবান প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ পুরুষ রয়েছেন। হামলায় আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলার একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। একই সময়ে পাক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক এক বিমান হামলায় ৩ জন শিশু নিহত হয়।

তালেবান প্রশাসন এই হামলাকে “মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তাদের অভিযান পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা সম্ভবত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার হাসান খেল এলাকায় টিটিপির হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ওই ঘটনায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বন্দুকযুদ্ধে পাকিস্তানের ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ সদস্য নিহত হন।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।

চলতি বছরের মার্চে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পারস্পরিক অভিযোগে তা কার্যত ভেঙে পড়ে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত সংঘর্ষ ও সহিংসতায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই শত শত আফগান বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top