ইরান চুক্তি করছে না, কারণ তারা নিজেদের শক্তিশালী মনে করে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নেতারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাননি। তার দাবি, নিজেদের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মনে করার কারণেই তারা চুক্তির পথে আসছে না। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হওয়ায় যারা তার সমালোচনা করছেন, তাদেরও জবাব দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, কয়েক দশক ধরে চলা বিভিন্ন যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান সংঘাত মোকাবিলায় তিনি অনেক দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তার মতে, অন্য কোনো প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলে এত দ্রুত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতো না।

ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোন তৈরির কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ইরানের হাতে এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

সম্প্রতি পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরানের একাধিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, এসব ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে যে দেশটির হাতে এখনো আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, শুধু ড্রোন নয়, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেও অভিযান চালানো হয়েছে।

কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। ফলে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শ্রমিক দিবসের পর হরমুজ প্রণালী ঘিরে বর্তমান মার্কিন অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য পথ বেছে নিতে হতে পারে, যার পরিণতি সুখকর হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখাই এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top