জব্দ সম্পদ অবমুক্ত না হলে অচলাবস্থা কাটবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোবে না বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, বর্তমানে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে এবং এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

ইরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তারা ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে চায়। পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এখনই অর্থ ছাড় করলে ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান চাপ প্রয়োগের উপায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও কঠোর হবে।

এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের দিকে তারা সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকতে হবে। অন্যদিকে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ অবমুক্তকরণ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে থাকায় সমঝোতার পথ সহজ হচ্ছে না।



বিষয়:



Top