ইরানের ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন বাহিনীর হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া ইরানের চারটি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোন ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার পর সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা ঠেকাতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনে হামলা চালানো হয়।
তবে এই হামলা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দিন আগে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি আবারও বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ষাট জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
তবে এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা ছিল।
এর আগে ওই বাহিনী জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা যখন প্রায় স্থবির, ঠিক তখনই আবারও এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সূচনা ঘটে।
এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি ও স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। সূত্র: বিবিসি
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
