বিক্ষোভে অংশ নিতে দেশে ফিরলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আজ শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি নিতে সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার উদ্দেশে রওনা হন।
দিল্লিতে পৌঁছে অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ও ভালোবাসাভিত্তিক আন্দোলনের আহ্বান জানান।
জানা গেছে, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে থানায় আবেদন করতে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে আন্দোলনের সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের সকাল থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির ডিজিটাল শাখার মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য এখনো তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি। তবুও সম্ভাব্য সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের প্রধান দাবি হলো বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও এই দাবিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নে ত্রুটি এবং অনিয়মের কারণে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে এটি তরুণদের একটি বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। যদিও সংগঠনটি এখনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে সংগঠনটির ওয়েবসাইট চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তোলেন, একটি তরুণদের আন্দোলনকে ঘিরে এত উদ্বেগ কেন তৈরি হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
