নয়াদিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল এক বাংলাদেশির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের নাম মোহাম্মদ নুরুল আমিন (৪৪)। তিনি স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তারা নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তায় কাজ করছে মিশন।
গত বুধবার সকালে মালভিয়া নগর এলাকার বহুতল ভবনে অবস্থিত হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে হাইকমিশন জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নয়াদিল্লিতে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকরা আহত বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মিশনের প্রধান চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু আগে হোটেলটিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। যৌথ উদ্ধার অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোটেলটির ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষণ দায়িত্বে থাকা আরও দুজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তে জানা গেছে, হোটেলটিতে দুই ডজনের বেশি কক্ষ থাকলেও অনুমোদন ছিল মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার। এছাড়া অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নিচতলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
