প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই রাজপথে বিক্ষোভের ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
ভারতে আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফল প্রকাশে অনিয়ম এবং পরীক্ষাব্যবস্থার নানা ত্রুটির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
একই সঙ্গে দাবি আদায়ে আগামী ৬ জুন রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের কারণে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিক সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাব রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেও সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করাকে তিনি যথেষ্ট ব্যবস্থা বলে মনে করেন না।
ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, ৬ জুন তারা দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার উদ্দেশে মিছিল করবে। পরে রাজধানীর জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাওয়া হবে। কর্মসূচিতে সব রাজনৈতিক মতের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির তিনজন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন সাংবাদিক সৌরভ দাস, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশুতোষ রাঙ্কা।
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তিনি জানান, আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে এবং আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে এই উদ্যোগ দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে এটি একটি বৃহৎ যুব আন্দোলনের রূপ নেয়।
যদিও সংগঠনটি এখনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে। ফলে দেশজুড়ে সংগঠনটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর কিছুদিনের মধ্যেই সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাদের কার্যক্রম নিয়ে এত উদ্বেগ কেন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনে অংশ নিতে তিনি দিল্লিতে আসবেন। এমনকি তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন থেমে থাকবে না বলেও দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনের আরেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির আন্দোলন নয়, বরং দেশের তরুণদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলন। একজনকে আটক করা হলেও এই আন্দোলনের পথচলা অব্যাহত থাকবে। তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
