যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলে ৩০ হাজার কোটি ডলার পেতে পারে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ জুন ২০২৬, ১০:২৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক সহায়তার প্রস্তাব। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই তহবিল ব্যবহার করা হতে পারে। সড়ক, বিদ্যুৎব্যবস্থা, শিল্পকারখানা এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হিসেবে গড়ে তোলা হতে পারে। বিভিন্ন দেশ এতে অর্থায়ন করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখবে। সমঝোতা স্মারক অনুমোদিত হলে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় তহবিলের কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি অনাক্রমণ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এই উদ্যোগ বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। আলোচনার সময় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ সীমিত বা স্থগিত রাখতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে আলোচনার দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ১০ টন অপেক্ষাকৃত কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সংরক্ষণ, ঘনত্ব কমানো অথবা আংশিকভাবে বিদেশে পাঠানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
