যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্ভাব্য চুক্তি: ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের আলোচনা
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল পুনর্গঠন তহবিল গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল মূলত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে গঠন করা হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে এবং বিভিন্ন দেশ অর্থায়নে অংশ নিতে পারে। এই অর্থ ইরানের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, শিল্পখাত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা না করার অঙ্গীকার করবে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্ত মানতে রাজি হবে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দেবে, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে সীমিত শিথিলতা আসতে পারে।
প্রস্তাবে বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে তেহরান চাইছে, আলোচনা শুরুর আগেই এসব অর্থ ছাড় করা হোক।
চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ ও নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলেও ইরান তা দেশের ভেতর আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর চলমান উত্তেজনা এখনো পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে।
বিষয়:
