চীনের সমালোচনার মুখে কঠোর অবস্থানে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

সংগৃহীত

চীনের সমালোচনার জবাবে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিঞ্জিরো কোইযুমি দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন। রোববার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি পরোক্ষভাবে চীনের নীতির সমালোচনা করেন।

শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কোইযুমি বলেন, জাপানের বিরুদ্ধে ‘নতুন সামরিকবাদ’ অনুসরণের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি ইঙ্গিত করেন, কিছু দেশের বিপুল পারমাণবিক অস্ত্র ও কৌশলগত সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও জাপানকে এমনভাবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

তিনি বলেন, জাপানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র বা একই ধরনের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা নেই। তাই জাপানকে নতুন সামরিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা ‘অদ্ভুত’ ও ‘ভিত্তিহীন’।

যদিও তিনি সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যকে বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সমালোচনার পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে জাপান শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে গিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এর বিপরীতে কোইযুমি দাবি করেন, চীন নিজেই পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছাড়াই দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, যা জাপানের জন্য ‘গুরুতর উদ্বেগের বিষয়’।

তিনি জানান, টোকিও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও উন্নত করবে এবং একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, মানববিহীন প্রযুক্তি ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে জাপানের আন্তর্জাতিক অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত, এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সেই বাস্তবতা পরিবর্তন করা যাবে না।

শাংরি-লা ডায়ালগকে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। এবারের আসরে প্রায় ৪৫টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করলেও চীনের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম ছিল।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top