যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে আবারও সংশোধনের দাবি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য চুক্তিতে নতুন করে কিছু সংশোধন আনার অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় এটি তৃতীয় দফা সংশোধনের উদ্যোগ।
সিবিএস নিউজের বরাতে জানা যায়, প্রস্তাবিত সংশোধনগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবহার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না ইরান। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত” নেওয়ার চেষ্টা হলেও নির্দিষ্ট কোনো সমাধান ঘোষণা করা হয়নি।
সিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির সর্বশেষ খসড়ায় ৬০ দিনের জন্য সহিংসতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত সম্পদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এসব অগ্রগতির মধ্যেই নতুন সংশোধনের খবর আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি করবে না যা দেশের স্বার্থ ও নির্ধারিত সীমারেখার বাইরে যায়, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে।
অন্যদিকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং আলোচনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় চলছে। ইরানের দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হলে আগে তাদের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই আলোচনা এখনো নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন কঠোর শর্ত আরোপ করতে চাইছে, অন্যদিকে তেহরান নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
