প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

সংগৃহীত

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে পৌঁছেছেন। পাঁচ দিনের এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকালে তিনি বিহার রাজ্যে পৌঁছান। পরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান মহাবোধি মন্দির-এ প্রার্থনা করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মিন অং হ্লাইংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের প্রতিফলন।

২০১৯ সালের পর এটিই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। সে সময় তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান হিসেবে ভারত সফর করেছিলেন।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি-র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিন অং হ্লাইং। চলতি বছরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংঘাতে মিয়ানমারে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নির্বাচনেও অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি-কে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মিন অং হ্লাইং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ভারত সফরের পর তার চীন সফর এবং শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ভারত ও মিয়ানমার-এর মধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে সফরটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। জাস্টিস ফর মিয়ানমার নামের একটি সংগঠন ভারতের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানানো সামরিক সরকারের প্রতি বৈধতার বার্তা দিতে পারে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top