কখনই পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে না: উ.কোরিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত চার দেশের জোট ‘কোয়াড’-এর উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কখনোই তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে না।
সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কোয়াড মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একমেরু আধিপত্য বিস্তারের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার। জোটটির কর্মকাণ্ডকে “বৈরী” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান।
মুখপাত্রের দাবি, কোয়াডের সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ জাপানের পুনঃঅস্ত্রসজ্জা এবং অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেন, পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই কোয়াডকে ন্যাটোর সম্ভাব্য এশীয় সংস্করণ হিসেবে দেখে আসছে এবং নিয়মিতভাবে এই জোটের সমালোচনা করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বক্তব্যে বিশেষভাবে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকাকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষায় ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং এআই-নির্ভর প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। কিম জং উন দাবি করেন, নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
উত্তর কোরিয়া বলছে, এসব উন্নত অস্ত্র তাদের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি মোতায়েন করা হতে পারে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
