ওজন বেড়েছে ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর “চমৎকার সুস্থ” বলে ঘোষণা করেছেন হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক। তবে তার ওজন বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী মাসে ৮০ বছরে পা দিতে যাওয়া ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে শপথ নেওয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শেন বার্বাবেল্লা জানান, ট্রাম্পের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্রসহ সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা ভালো এবং তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণ সক্ষম।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড, ঘাড়ের ধমনীর পরীক্ষা, ফুসফুস ও চোখের পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ওজন ২৩৮ পাউন্ড। গত বছরের তুলনায় তার ওজন প্রায় ১৪ পাউন্ড বেড়েছে। তার বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৯.৭, যা অতিরিক্ত ওজনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি এবং স্থূলতার সীমার ঠিক নিচে।
চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার হৃদযন্ত্রের বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় প্রায় ১৪ বছর কম বলে ধারণা করা হয়, যা তার তুলনামূলক সক্রিয় জীবনযাত্রার ফল।
ট্রাম্প বর্তমানে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে দুটি ওষুধ গ্রহণ করছেন এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন অ্যাসপিরিন সেবন করেন। চিকিৎসকদের মতে, এ কারণেই তার হাতে কখনও কখনও কালশিটে দাগ দেখা যেতে পারে।
এছাড়া তার পায়ে হালকা ফোলাভাব লক্ষ্য করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি শিরাজনিত সমস্যার কারণে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় এক হত্যাচেষ্টার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার ডান কানে যে ক্ষত হয়েছিল, তার চিহ্ন এখনও রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষায় ট্রাম্প মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্টে পূর্ণ ৩০ নম্বর পেয়েছেন, যা স্মৃতিশক্তি ও মানসিক দক্ষতার স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে জনমত জরিপে অনেকেই রাজনীতিবিদদের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন রাজনৈতিক নেতারা তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন না।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশ আইনত বাধ্যতামূলক না হলেও এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রথা হিসেবে প্রচলিত।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
