ড্রোন বিধ্বস্তের ঘটনায় ন্যাটো–রাশিয়া উত্তেজনা চরমে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
রোমানিয়ার ভূখণ্ডে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) এবং রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ন্যাটোর কঠোর প্রতিক্রিয়ার পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের উদ্দেশে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভবিষ্যতেও ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটতে পারে এবং এর ফলে ইউরোপীয় নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।
গত শুক্রবার দেওয়া এক মন্তব্যে মেদভেদেভ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে এবং ইউরোপীয় নাগরিকরা আর আগের মতো শান্তিতে থাকতে পারবেন না।
এর আগে রোমানিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় রুশ ড্রোন আছড়ে পড়ার অভিযোগ তুলে ন্যাটো মস্কোর বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া আচরণ’ করার অভিযোগ আনে। একই সঙ্গে জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সামরিক জোটটি।
তবে ন্যাটোর এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে মেদভেদেভ বলেন, বিধ্বস্ত হওয়া ড্রোনটি আসলে কোন দেশের তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়াকে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, ইউরোপের দেশগুলো পরোক্ষভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্ত রয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোই এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছে। তাঁর মতে, এসব দেশের তৈরি ড্রোন, অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মেদভেদেভ আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই চলতে হবে, কারণ সংঘাতের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, রোমানিয়ার ড্রোন ঘটনাটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কনস্টানটায় রুশ দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্তের জবাবে মস্কো শিগগিরই পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
