মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ডলার দুর্বলতায় স্বর্ণে ঊর্ধ্বগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০১:২২ পিএম

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের সম্ভাবনার খবরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কায় মাসিক হিসাবে স্বর্ণের দাম এখনও পতনের ধারাতেই রয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শেষ করে।

অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ ডলারে স্থির হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন ডলার সূচক সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী থাকায় ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। একই সময়ে তেলের দামও কমার পথে রয়েছে, যা স্বর্ণের জন্য সহায়ক হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় বজায় থাকার ঝুঁকি এখনও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে দেরি করতে পারে, যা স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করছে।

সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক, কারণ এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের সুযোগ ব্যয় বাড়ে। ফলে মাসিক হিসাবে স্পট গোল্ডের দাম এখনো এক শতাংশের বেশি কম রয়েছে।

এদিকে ভারত ও চীনে চাহিদা দুর্বল থাকায় বৈশ্বিক বাজারেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top