গ্রীষ্মে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

শুক্রবার (২৯ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে আসন্ন গ্রীষ্মে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বিশ্বের তেলের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই মজুদ ফুরিয়ে যেতে পারে।

সংস্থাগুলোর মতে, এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুধু জ্বালানি নয়, সারের দামও বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

সংস্থাগুলো জানায়, কম আয়ের ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে, তারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।

এর আগে এপ্রিল মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএ দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সমন্বিত সহায়তার উদ্যোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা নিয়ে কাজ চলছে।

আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় দুর্বল দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশও একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চেয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে, যার প্রভাব জ্বালানি, সার, খাদ্যপণ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়বে।

সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top