ট্রাম্পের দুই শর্তে আটকে আছে শান্তিচুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ১১:৪১ এএম
প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো আসেনি। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে প্রায় দুই মাসের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি শর্ত দিয়েছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্তই মেনে নেয়নি, ফলে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি আটকে আছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না—এ বিষয়ে তাদের সম্মতি দিতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের শুল্ক আদায় করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় থাকা উচিত। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হলে প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে জানায় তেহরান।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ শিথিল করতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ কতটা ছাড় দিতে রাজি, তা স্পষ্ট হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেও ইরান ইস্যুতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সেখানেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বৈঠক শেষে কোনো ঘোষণা আসেনি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান আলোচনা এখনো সীমিত পরিসরে চলছে এবং এতে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত নয়।
সূত্র: রয়টার্স
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
