লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের ৪ বাংলাদেশি আহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে নতুন করে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) একযোগে চালানো বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
আহতদের মধ্যে নাভানিয়া এলাকায় ড্রোন হামলার শিকার হওয়া একই পরিবারের চার বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের পরিচয় ও অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হামলার পাশাপাশি নতুন করে এলাকা খালি করার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতদের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে একটি পৃথক হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। ভোরে সাইদা ও টাইর শহরকে সংযুক্তকারী আদলুন মহাসড়কে চলাচলের সময় ড্রোন হামলায় তারা প্রাণ হারান।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবানন ও পশ্চিম বেকা অঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে টাইর শহর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে, যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
রাতভর চালানো হামলায় টাইর শহরে একটি ভবন ও একটি ক্যাফেতে আগুন ধরে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে বেসামরিক এলাকা ও সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি সতর্ক করে বলেছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
