যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ খুলতে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রগুলো বলছে, ইরানের পক্ষ থেকেও এখনো এ সমঝোতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু ইস্যুর স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা প্রয়োজন হবে।
একজন মার্কিন আলোচক জানিয়েছেন, এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য হলো দুই পক্ষকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তার ভাষায়, “এটি মূলত আলোচনার পথ তৈরি করার একটি কাঠামো, যেখানে পরবর্তী বিস্তারিত বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।”
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, গত মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তির শর্তগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিরা পরবর্তীতে অনুমোদনের কথা জানালেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে, চুক্তির বিস্তারিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দেননি। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি আরও কয়েকদিন সময় চেয়েছেন। অতীতেও একই ধরনের আলোচনায় শেষ মুহূর্তে অগ্রগতি থেমে যাওয়ার নজির রয়েছে।
প্রস্তাবিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে—
হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হবে, যেখানে কোনো টোল বা হয়রানি থাকবে না এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে। ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালিতে থাকা সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে হবে।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আংশিকভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। আলোচনার ৬০ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ন্ত্রণ, স্থানান্তর বা ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
এ ছাড়া মানবিক সহায়তা প্রবাহ সহজ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ সংঘাত প্রশমনের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।
চুক্তির আলোচনার মধ্যেই গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের সামনে এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবে এটি তাদের আলোচনায় অগ্রগতি করার ওপর নির্ভর করবে।”
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। এই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনা প্রত্যাহারও একটি স্থায়ী ও সফল চুক্তির ওপর নির্ভর করছে বলে জানানো হয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
