কলকাতার গরুর হাটে ক্রেতাশূন্যতা, ঈদ মৌসুমে ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত ধুলাগড় গরুর হাটে এবার জমজমাট বেচাকেনার পরিবর্তে নেমে এসেছে ক্রেতাশূন্যতা। ফলে চরম হতাশা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (২৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাটে শত শত গরু আনা হলেও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পশুগুলো বাঁধা অবস্থায় থাকলেও ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। টিনশেডের নিচে বসে সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, কিন্তু বিক্রির কোনো লক্ষণ নেই।
একজন হিন্দু গরু বিক্রেতা জানান, ঈদ মৌসুমে ভালো ব্যবসার আশায় তিনি উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে গরু এনেছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেছে বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে ঈদকে ঘিরে এই হাটে মুসলিম ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় থাকত এবং গরু, ছাগল ও অন্যান্য পশুর বেচাকেনা হতো। কিন্তু এবার সেই পরিবেশ আর নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গরু জবাই সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে সরবরাহকারী ও ক্রেতা উভয় পক্ষই আতঙ্কে রয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
একজন মাংস ব্যবসায়ী জানান, সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক চাপের কারণে তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে চলে গেছে। বিক্রিও আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে।
হাটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, গরু না বিক্রি হওয়ায় তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কেউ কেউ ঋণ নিয়ে পশু কিনে এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পশু জবাই ও পরিবহন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর প্রভাব সরাসরি জীবিকা ও ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতিগুলো অনেক সময় অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে, যার প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাণিজ্যে ও গ্রামীণ জীবিকায়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
