আন্তজাতিক ডেস্ক
|
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
শেয়ার করুন
ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত নাম—‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘আরশোলা জনতা’। নামটি যতটা অস্বাভাবিক, এর জনপ্রিয়তা তার চেয়েও বিস্ময়কর।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন—“কেমন হয় যদি সব আরশোলা একত্রিত হই?” এই পোস্ট থেকেই ভার্চ্যুয়াল জগতে শুরু হয় নতুন এক রাজনৈতিক-সামাজিক ঢেউ।
অভিজিৎ দীপকের ওই পোস্ট দ্রুতই ভারতীয় তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি ঘিরে গড়ে ওঠে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
অল্প সময়েই ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনলাইন অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায় বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন নয়; বরং ভারতের জেন-জি তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন।
বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন ও রাজনৈতিক অসন্তোষ—সব মিলিয়ে তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতেই ব্যঙ্গ ও মিম-নির্ভর আন্দোলন হিসেবে ‘আরশোলা জনতা’র উত্থান ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই সংগঠনটি সরাসরি কোনো নির্বাচনী রাজনীতিতে না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট, ভিডিও ও এআই-নির্ভর প্রচারণার মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।
তারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদও জানিয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার পর্যবেক্ষণে বেকার তরুণদের ‘আরশোলা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং আন্দোলনটি নতুন গতি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অনলাইন আন্দোলন সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতায় পরিবর্তন না আনলেও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে তরুণদের মনোভাব প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে। তবে বাস্তব রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।