ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন?

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একাধিক সফল অভিযানের পরও ট্রাম্প সেই সাফল্যকে টেকসই ভূ-রাজনৈতিক বিজয়ে রূপ দিতে পারেননি। ইরান এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণে অনড় অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নেতৃত্বও অভ্যন্তরীণভাবে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক সার সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে পড়তে পারে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। ব্রিটেনও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, হরমুজ সংকট বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেছেন, “যে যুদ্ধকে স্বল্পমেয়াদি বিজয় হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটিই এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধবিরোধী জনমত এবং রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন সিনেটেও এমন একটি প্রস্তাব এগিয়েছে, যা পাস হলে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন না।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছেন বলে জানা গেছে।

তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা নিজেই একটি কৌশলগত সাফল্য। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছে নিয়ে এসেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেও চাপে ফেলেছে।

তবুও বাস্তবতা হলো, ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, আঞ্চলিক প্রভাব কমানো এবং তেহরানের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই যুদ্ধ এখনো ট্রাম্পের জন্য একটি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়ে আছে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল জাজিরা

 
 


বিষয়:



Top