৬০ দিনের মধ্যে চাকরি না পেলে ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, বিপাকে হাজারো বিদেশিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তিকর্মীরা। চাকরি হারানোর পর ৬০ দিনের মধ্যে নতুন চাকরি না পেলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো বিদেশি কর্মী।
সম্প্রতি মেটা, অ্যামাজন ও লিংকডইনের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসা নির্দিষ্ট চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ৬০ দিনের সময়সীমা। এই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে ভিসা স্থানান্তর অথবা অন্য ভিসায় পরিবর্তন করতে না পারলে দেশ ছাড়তে হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীর শেষ কর্মদিবস থেকেই এই সময় গণনা শুরু হয়। শেষ বেতন পাওয়ার দিন থেকে নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়ম আগে থেকেই চালু থাকলেও বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বিদেশি কর্মীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি মেটা কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রযুক্তি খাতে এক লাখের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি কর্মী রয়েছেন। ভারতীয় কর্মীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনেক বিদেশি কর্মী দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনেছেন, আবার কারও সন্তান সেখানেই জন্ম নিয়েছে। ফলে চাকরি হারানোর ঘটনা শুধু আয়ের সংকট নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এদিকে অনেক কর্মী অস্থায়ীভাবে ভ্রমণ ভিসায় পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, যাতে অতিরিক্ত কিছু সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ভারতীয়দের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ছিল উন্নত কর্মজীবন ও উচ্চ আয়ের স্বপ্নের দেশ। কিন্তু বর্তমানে বারবার চাকরি হারানো, ভিসানির্ভরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব অনেককেই নতুন করে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
