বাবরি মসজিদ বানাতে চাওয়া হুমায়ুনকে ভারত ছাড়তে বললেন বিজেপি মন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে কোরবানি ও পশুবলি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলিমদের ধর্মীয় আচার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা গেছে।
রাজ্যের নওদা এলাকার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর কোরবানির ওপর বিধিনিষেধের বিরোধিতা করে বলেন, কোরবানি মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ। তার দাবি, রাজ্যের বিপুলসংখ্যক মুসলিম গরুর মাংস ভক্ষণ করেন এবং কোরবানি বন্ধ করতে হলে কসাইখানাও বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে ধর্মীয় আচার বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবীরের এমন বক্তব্যের জবাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ভারতে বসবাস করতে হলে দেশের আইন ও সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম মানতে আপত্তি থাকলে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে পশুবলি ও কোরবানি নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা জারি করে। এতে অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই, প্রকাশ্যে রক্তপাত এবং গবাদিপশু জবাইয়ের বিষয়গুলোতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগ, নতুন নির্দেশনা ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহাকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিরোধীদের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও বিজেপির দাবি, আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
