পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তবে তেহরান সেই দাবিতে রাজি নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
ইরানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে ইরান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ কারণেই সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। ইরানি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ওটা তাদের কাছে থাকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে আমরা তা ধ্বংস করব।”
এদিকে ইসরায়েলও স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ছাড়া তারা যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করবে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম ছিল। বর্তমানে সেই মজুদের কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে জানান, ওই ইউরেনিয়ামের বড় একটি অংশ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি টানেল কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া নাতাঞ্জের পারমাণবিক কমপ্লেক্সেও কিছু মজুদ রয়েছে বলে বিশ্বাস করে সংস্থাটি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
