সিন্ধু পানি চুক্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০২:৩২ এএম
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বড় ধরনের আইনি জয় পেয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের আবেদনের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করেছে।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই রায়ের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর আগে গত বছর ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল।
গত শুক্রবার আদালত তাদের আগের রায় বহাল রেখে জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং ভারত একক সিদ্ধান্তে এটি স্থগিত করতে পারে না। ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাশ্মীরের পাহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত গত বছর চুক্তিটি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, আদালতের রায় তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। পাকিস্তানের দাবি, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর এই চুক্তি বাস্তব সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, রাতলে ও কিশেঙ্গাঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ভারত সাময়িকভাবে পানির প্রবাহ আটকে রাখতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে বাঁধের পেছনে পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত নির্গমন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্ভব বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে দেশটি জানায়, তারা এই আদালতের বৈধতা কখনোই স্বীকার করেনি এবং আদালতের সব ধরনের রায় ও কার্যক্রম তাদের কাছে বাতিল ও অকার্যকর।
ভারত আরও জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।
বোস্টনভিত্তিক পানি আইন ও নীতিবিষয়ক গবেষক ইরুম সাত্তার বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় চুক্তির আইনগত ও কারিগরি ব্যাখ্যার দিক থেকে যথাযথ। তবে ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান বৈরী সম্পর্কের কারণে বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো পক্ষ যখন আন্তর্জাতিক কাঠামোর নিয়ম মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন সেই চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে এবং আকাশপথেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ বহাল আছে।
তবে সম্প্রতি ভারতের ডানপন্থী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কয়েকজন শীর্ষ নেতা পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। বিষয়টি পাকিস্তানেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন নিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
