ইরানঘনিষ্ঠ ৫০টির বেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ও জাহাজে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১২ ব্যক্তি, ২৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৯টি জাহাজকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক ইরানকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করছিল।

নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য ইরানের মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এক্সচেঞ্জ’, যা ‘ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি’ নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ইরানি ব্যাংকের হয়ে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইরানের এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলো প্রতিবছর বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনা করে থাকে। এর মাধ্যমে তেহরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায় বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থ স্থানান্তরে ভূমিকা রাখছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি জাহাজকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোজের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার ‘গ্রেট সেইল’, পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘ওশান ওয়েভ’ এবং পানামার পতাকাবাহী কেমিক্যাল ও অয়েল ট্যাংকার ‘সুইফট ফ্যালকন’।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর আগে স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, জি-৭ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সংকট ও ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

কীওয়ার্ড: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, স্কট বেসেন্ট, আমিন এক্সচেঞ্জ



বিষয়:



Top