নতুন নিয়মে চরম বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু খামারিরা, আত্মহত্যার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশুর হাট ও জবাই প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পশু খামারিদের ওপর। বিশেষ করে সাধারণ খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্রেতা সংকটের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দাবি, তারা সারা বছর ধারদেনা করে গরু পালন করেন। মূলত কুরবানির মৌসুমে পশু বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ এবং পরিবারের খরচ মেটানোর আশা থাকে তাদের। কিন্তু নতুন নিয়মকানুন ও কড়াকড়ির কারণে ক্রেতারা এখন হাটে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাও পিছিয়ে যাচ্ছেন।

ফলে পশু বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র খামারিদের ওপর ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকট দ্রুত বাড়ছে।

নতুন সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে-

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন ছাড়া জবাই করা যাবে না। পশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গর্ভবতী পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খোলা জায়গায় জবাই করা যাবে না, শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানায় জবাই করতে হবে। এসব নিয়ম ভাঙলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাঠপর্যায়ে একটি পশুর সঠিক বয়স নির্ধারণ কীভাবে সম্ভব হবে।

গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ খামারির কাছে পশুর বয়স প্রমাণের নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র না থাকায় প্রশাসনিক হয়রানি ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদসহ সীমান্তবর্তী ও বড় জেলার পশুর হাটগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আইনি জটিলতা ও পুলিশের হয়রানির ভয়ে অনেকে হাটে আসছেন না বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সারা বছরের পরিশ্রমে লালন করা গবাদি পশু বিক্রি করতে না পেরে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা। দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top